ভূমি সেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ সরকার জমি-জমা সংক্রান্ত প্রায় সব কাজই এখন ডিজিটাল বা অনলাইনের আওতায় নিয়ে এসেছে। জমির মালিকানা নিশ্চিত করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো নামজারি বা মিউটেশন (Mutation)।
ফির বিবরণ টাকার পরিমাণ কখন দিতে হয়
অনলাইন আবেদন ফি ২০ টাকা আবেদনের সময় (অনলাইনে)
নোটিশ জারি ফি ৫০ টাকা আবেদনের সময় (অনলাইনে)
রেকর্ড সংশোধন ফি ১,০০০ টাকা আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পর
খতিয়ান সরবরাহ ফি ১০০ টাকা আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পর
সর্বমোট সরকারি ফি ১,১৭০ টাকা
গুরুত্বপূর্ণ নোট: সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ই-নামজারির প্রকৃত ফি মোট ১,১৭০ টাকা। এর বাইরে কোনো অতিরিক্ত টাকা বা ফি দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা নেই।
ফি পরিশোধের নিয়ম: দুই ধাপে টাকা জমা
নামজারি করতে কী কী কাগজপত্র লাগে?
আবেদন করার আগে নিচের কাগজপত্রগুলো স্ক্যান করে পিডিএফ (PDF) বা ছবি আকারে রেডি রাখুন:
- আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এবং সচল মোবাইল নম্বর।
- মূল দলিল (দলিলের সার্টিফাইড কপি বা বায়া দলিল, যদি থাকে)।
- সর্বশেষ মাঠ পর্চা বা আরএস/বিএস খতিয়ান।
- উত্তরাধিকার সূত্রে হলে অনূর্ধ্ব ৩ মাসের মধ্যে ইস্যু করা ওয়ারিশন সার্টিফিকেট।
- ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা পরিশোধের দাখিলা (রসিদ)।
দালালের হয়রানি থেকে বাঁচতে আমাদের পরামর্শ
আজকাল অনেক দালাল বা অসাধু চক্র নামজারি করে দেওয়ার নাম করে ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত দাবি করে বসে। এই হয়রানি থেকে বাঁচার সবচেয়ে সেরা উপায় হলো "নিজে নিজে অনলাইনে আবেদন করা"।
আপনি যদি সামান্য কম্পিউটার বা স্মার্টফোন চালাতে পারেন, তবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (land.gov.bd)-এ গিয়ে খুব সহজেই নিজেই আবেদন করতে পারবেন। কোনো কারণে নিজে না পারলে বিশ্বস্ত কোনো ডিজিটাল সেন্টার বা কম্পিউটারের দোকান থেকে মাত্র ৭০-১০০ টাকা সার্ভিস চার্জ দিয়ে আবেদন করিয়ে নিতে পারেন।
শেষ কথা
জমির মালিকানা ধরে রাখতে এবং ভবিষ্যতের ঝামেলা এড়াতে সঠিক সময়ে নামজারি করা বুদ্ধিমানের কাজ। ২০২৬ সালের নিয়ম অনুযায়ী মাত্র ১,১৭০ টাকায় ঘরে বসেই এখন নামজারি সম্ভব। তাই অযথা দালালের পেছনে টাকা নষ্ট না করে নিজে সচেতন হোন এবং সঠিক নিয়মে ভূমি সেবা গ্রহণ করুন।
