না দাবি চুক্তিপত্র দলিল লেখার নিয়ম | Deed of Release

না দাবি চুক্তিপত্র দলিল লেখার নিয়ম

নাদাবী দলিল কাকে বলে ? 

না-দাবি দলিল (Deed of Release) বলতে সাধারণত এমন একটি আইনি দলিলকে বোঝায়, যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি নির্দিষ্ট কোনো সম্পত্তির উপর তার সমস্ত স্বত্বাধিকার বা দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে পরিত্যাগ করেন বা ছেড়ে দেন। 

একে মুক্তিপত্র দলিল (Deed of Release) দলিল হিসাবেও বলা যায় 

​সহজ কথায়:

  • দাবি পরিত্যাগ: এই দলিলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ঘোষণা করেন যে তিনি ওই সম্পত্তিতে কোনো ধরনের মালিকানা, উত্তরাধিকার, বা অন্য কোনো অধিকার আর দাবি করছেন না।
  • স্বত্ব হস্তান্তর নয়: এটি সাধারণত সম্পত্তির স্বত্ব হস্তান্তর করার দলিল নয় (যেমন সাফ কবলা দলিল)। বরং এটি হলো সেই ব্যক্তির পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে কোনো দাবি উত্থাপনের পথ বন্ধ করার একটি আইনি প্রক্রিয়া।
  • সাধারণ ব্যবহার: এটি সাধারণত পারিবারিক সম্পত্তি ভাগ-বাঁটোয়ারা বা উত্তরাধিকার সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। যেমন—ওয়ারিশদের মধ্যে কেউ যদি কোনো সম্পত্তি বা তার অংশের উপর থেকে তার দাবি ত্যাগ করতে চান, তখন তিনি এই দলিল সম্পাদন ও রেজিস্ট্রি করে দিতে পারেন।

১. দলিলের শিরোনাম ও পরিচয়

  • দলিলের নাম: না-দাবী দলিল/মুক্তিপত্র
  • দলিল নম্বর, বহি নম্বর ও ক্রমিক নম্বর: (সাব-রেজিস্ট্রি অফিস কর্তৃক পূরণীয়)
  • নিবন্ধন কার্যালয়ের নাম: (যে অফিসে দলিলটি রেজিস্ট্রি হবে)
  • দলিল সম্পাদনের তারিখ: (বাংলা ও ইংরেজি)

​২. প্রথম পক্ষ (দাবিত্যাগকারী/দাতা) পরিচিতি

​যিনি তার দাবি ত্যাগ করছেন/মুক্তি দিচ্ছেন:

  • নাম:
  • পিতা/স্বামীর নাম:
  • ধর্ম, জাতি, পেশা:
  • স্থায়ী ঠিকানা: (গ্রাম/রোড, ডাকঘর, থানা/উপজেলা, জেলা)

​৩. দ্বিতীয় পক্ষ (দাবি থেকে মুক্তপ্রাপ্ত/গ্রহীতা) পরিচিতি

​যাঁর অনুকূলে দাবি ত্যাগ করা হচ্ছে:

  • নাম:
  • পিতা/স্বামীর নাম:
  • ধর্ম, জাতি, পেশা:
  • স্থায়ী ঠিকানা: (গ্রাম/রোড, ডাকঘর, থানা/উপজেলা, জেলা)

​৪. দলিলের সারসংক্ষেপ ও উদ্দেশ্য

  • ​দলিলটি কী ধরনের: না-দাবিপত্র।
  • দাবি ত্যাগের উদ্দেশ্য: এখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে কেন দাবি ত্যাগ করা হচ্ছে। যেমন: পারিবারিক আপস-মীমাংসা, সম্পত্তি বন্টন, বা অন্য কোনো আইনি জটিলতা নিরসনের জন্য।
  • ​দাবিত্যাগকারী স্বেচ্ছায় ও সুস্থ মস্তিষ্কে এই দাবি ত্যাগ করছেন, এবং এর বিনিময়ে কোনো প্রকার অর্থ বা প্রতিদান গ্রহণ করছেন না (যদি না এটি বন্ধক মুক্তির দলিল হয়)।

​৫. না-দাবীকৃত সম্পত্তির তফসিল (সম্পত্তির বিস্তারিত বিবরণ)

​যে সম্পত্তির উপর দাবি ত্যাগ করা হচ্ছে, তার সম্পূর্ণ বিবরণ:

  • জেলা, উপজেলা, থানা:
  • মৌজা ও জে.এল. নং:
  • খতিয়ান নম্বর (আর.এস., সি.এস., এস.এ.):
  • দাগ নম্বর/দাগসমূহের তালিকা:
  • সম্পত্তির মোট পরিমাণ: (একর বা শতকে)
  • সম্পত্তির শ্রেণি ও মূল্য:
  • না-দাবীকৃত সম্পত্তির পরিমাণ: (দাবিত্যাগকারী যতটুকু অংশের দাবি ছাড়ছেন)

​৬. অঙ্গীকার ও ঘোষণা

​এই অংশটি না-দাবী দলিলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেখানে দাবি ত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা থাকে:

  • ঘোষণা: প্রথম পক্ষ (দাবিত্যাগকারী) ঘোষণা করছেন যে, অদ্য হইতে তফসিল বর্ণিত সম্পত্তির উপর তার বা তার ওয়ারিশদের কোনো প্রকার স্বত্ব, স্বার্থ, দাবি-দাওয়া বা আপত্তি রইল না এবং ভবিষ্যতে কোনো প্রকার দাবি করা হবে না।
  • আইনি ফল: যদি ভবিষ্যতে কেউ দাবি করে, তবে তা আইনত ও ন্যায়ত সর্ব আদালতে সর্বক্ষেত্রে বাতিল ও অগ্রাহ্য বলে গণ্য হবে।
  • ​দাবিত্যাগকারী দ্বিতীয় পক্ষকে সম্পত্তির উপর নিরঙ্কুশ মালিকানা এবং দখল বহাল রাখার জন্য মুক্ত ও ক্ষমতাবান করলেন।

​৭. স্বাক্ষর ও শনাক্তকরণ

  • ১ম পক্ষের (দাবিত্যাগকারী/দাতা) স্বাক্ষর:
  • ২য় পক্ষের (গ্রহীতা) স্বাক্ষর:
  • সাক্ষীগণের নাম, ঠিকানা ও স্বাক্ষর: (কমপক্ষে ২ জন)
  • শনাক্তকারীর নাম, ঠিকানা ও স্বাক্ষর: (সাধারণত দলিল লেখক বা পরিচিত ব্যক্তি)
  • মুসাবিদাকারী বা দলিল লেখকের নাম, ঠিকানা ও সনদ নম্বর: (যিনি দলিলটি প্রস্তুত করেছেন)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Ok, Go it!